নিজস্ব সংবাদদাতা,কাটোয়া:- কাটোয়ার গঙ্গায় ধরা পড়ল একের পর এক বিশাল আকৃতির গলদা চিংড়ি, যার ওজন গড়ে ৪০০ থেকে ৪৫০ গ্রাম পর্যন্ত! এই বিরল আকৃতির চিংড়ি এখন কাটোয়া বাজারের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয় মাছ বিক্রেতা তেলা ঘোষ জানিয়েছেন, এই চিংড়িগুলি কাটোয়ার গঙ্গায় জেলেদের জালে ধরা পড়েছে। কাটোয়ার পাইকারি মাছের আড়ৎ (বিপদতারণ মাঝি এন্ড সন্স)থেকে তিনি কিনেছেন। প্রতিটি মাছ হাতে তোলার সময়ই বোঝা যাচ্ছিল, এগুলি সাধারণ গলদা নয়,”এমন বড় গলদা আমি বহু বছর পর দেখলাম,” বলেন মাছ বিক্রেতা তেলা ঘোষ। কাটোয়ার স্থানীয় আড়ৎ (বিপদতারণ মাঝি এন্ড সন্স) মালিক চন্দ্রকান্ত মাঝি জানান এত বড় ওজনের চিংড়ি মাছ বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে আসেনি, সাধারণত কাটোয়া গঙ্গায় ১৫০ গ্রাম ওজনের গলদা চিংড়ি পাওয়া যায়। এত বড় চিংড়ি খুবই কম। বহুদিন পর আজ সকালে জেলেদের জালে, কেজি তিনের মতন চিংড়ি ধরা পড়েছে। যার এক একটি ওজন ৪০০-৪৫০ গ্রাম। তবে গঙ্গায় বেশিরভাগ আর, বোয়াল, ইটে, পাঙ্গাস, এগুলো একটু বড় আর দশ কেজি ওজনের ও পাওয়া যায়। মাঝে মাঝে বড় বড় রুই কাতলা ও পাওয়া যায়। আর গঙ্গার ছোট মাছ তো প্রায় হারিয়ে গিয়েছে।

দূষণের ফলে এই মাছ আর পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এই ধরনের চিংড়ি আমি পাঁচ বছরে ও কাটোয়ার গঙ্গায় দেখিনি। বর্তমানে এই চিংড়ির দাম রাখা হয়েছে প্রতি কেজি ১৫০০ টাকা। দাম তুলনামূলক বেশি হলেও ক্রেতাদের উৎসাহে কোনো ঘাটতি নেই। সকালে বাজার খোলার পর থেকেই ক্রেতাদের ভিড় লেগে যায় তেলা ঘোষের দোকানে। কেউ পরিবার কে নিয়ে যাচ্ছেন বিশেষ দিনের রান্নার জন্য গলদা চিংড়ি মাছ কিনতে ,কেউ আবার ভিডিও তুলছেন সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করার জন্য। তবে অল্প কটা মাছ কয়েকজনকে তার ভাগ্যে জুটবে। স্থানীয় এক ক্রেতা সঞ্জয় দাস বলেন, এমন বড় গলদা চিংড়ি শুধু টেলিভিশনে দেখেছি। আজ হাতে নিয়ে সত্যিই অবাক। বিশেষজ্ঞদের মতে, গলদা চিংড়ি সাধারণত নদীর মিঠা জলে বড় হয়, তবে এত বড় আকারে পাওয়া খুবই বিরল। গঙ্গার জলের গুণমান ও পরিবেশগত ভারসাম্য ঠিক থাকলে ভবিষ্যতে এমন বড় চিংড়ি আরও ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।






















