নিজস্ব সংবাদদাতা, কাটোয়া:- নদীর স্বাভাবিক আবাসস্থল ছেড়ে অনেকটা দূরে চলে এসেছিল একটি মিষ্টি জলের কচ্ছপ। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মানবিকতা ও সচেতনতার জেরে শেষ পর্যন্ত নিরাপদেই নিজের ঠিকানায় ফিরতে পারল বিপন্ন প্রাণীটি। কাটোয়ার কাশিগঞ্জ ঘাট এলাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশংসার জোয়ার উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার কাশিগঞ্জ পাড়া ঘাট সংলগ্ন একটি আমবাগানে হঠাৎই একটি কচ্ছপকে ঘুরে বেড়াতে দেখতে পান এলাকার বাসিন্দারা। নদী থেকে অনেকটা দূরে চলে আসায় এবং তীব্র গরমের কারণে প্রাণীটি বেশ ক্লান্ত ও অসহায় অবস্থায় ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। খবর ছড়িয়ে পড়তেই কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমলেও কেউ কচ্ছপটির কোনো ক্ষতি করেননি। বরং এলাকার বাসিন্দারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কচ্ছপটিকে উদ্ধার করে নিরাপদে রাখেন। কচ্ছপটির শারীরিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য দেখে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, এটি একটি ইন্ডিয়ান ফ্ল্যাপশেল টার্টল (Indian Flapshell Turtle), যা স্থানীয়ভাবে ‘চিতি কচ্ছপ’ নামে পরিচিত। এই প্রজাতির কচ্ছপ সাধারণত গঙ্গা ও তার সংলগ্ন নদী-খাল-বিল এবং মিষ্টি জলের জলাশয়ে বসবাস করে। উদ্ধারের পর আর সময় নষ্ট না করে স্থানীয়রা কচ্ছপটিকে নিয়ে যান কাটোয়া গঙ্গার ঘাটে। সেখানে সুরক্ষিতভাবে জলে ছেড়ে দেওয়া হলে প্রাণীটি দ্রুত সাঁতার কেটে নদীর গভীরে মিলিয়ে যায়। পুরো ঘটনাই উপস্থিত মানুষজনের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ তৈরি করে। ঘটনাচক্রে সেই সময় কাশিগঞ্জ এলাকায় একটি চায়ের দোকানে ছিলেন কাটোয়ার হরিসভা পাড়ার যুবক তনয় চক্রবর্তী। স্থানীয়দের উদ্যোগে কচ্ছপ উদ্ধার এবং গঙ্গায় অবমুক্ত করার গোটা দৃশ্য তিনি নিজের মোবাইল ফোনে ভিডিও ও ছবি হিসেবে ধারণ করেন। তাঁর সৌজন্যেই সেই ছবি ও ভিডিও পৌঁছে যায় ‘নিউজ নেটওয়ার্ক সেভেন’-এর দপ্তরে।

পরিবেশপ্রেমীদের মতে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাশিগঞ্জ ঘাটের বাসিন্দারা যেভাবে একটি অসহায় প্রাণীকে উদ্ধার করে তার স্বাভাবিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে দিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে সমাজের কাছে একটি ইতিবাচক ও মানবিক বার্তা তুলে ধরেছে।





















