নিজস্ব প্রতিনিধি, কাটোয়া:- সমাজের নেপথ্যে থেকে অক্লান্ত পরিশ্রমে মানুষের সেবা করে চলা পরিচারিকাদের প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান ও কৃতজ্ঞতা জানাতে কাটোয়ায় অনুষ্ঠিত হল এক ব্যতিক্রমী ‘পরিচারিকা সম্মিলন’। রবিবার (২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পরিচারিকাদের দেবীরূপে বরণ করে তাঁদের সম্মান জানানো হয়। মানবিক মূল্যবোধ ও সেবার আদর্শকে সামনে রেখে এই অভিনব উদ্যোগ উপস্থিত সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পবিত্র বেদপাঠের মাধ্যমে।

পরে নবদ্বীপ রামকৃষ্ণ মঠের সম্পাদক স্বামী অমরেশ্বরানন্দ মহারাজ এবং কাটোয়া কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাজেশচন্দ্র মণ্ডল-কে সংবর্ধনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল উপস্থিত পরিচারিকাদের কপালে চন্দনের ফোঁটা দিয়ে দেবীরূপে বরণ এবং আরতির মাধ্যমে তাঁদের সম্মান জানানো। এই ব্যতিক্রমী আয়োজন পরিচারিকাদের আবেগাপ্লুত করে তোলে।

অনুষ্ঠানে ভক্তিমূলক সংগীত পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী ডোনা রক্ষিত। তাঁর সুমধুর কণ্ঠে পরিবেশিত সংগীত অনুষ্ঠানের আধ্যাত্মিক আবহকে আরও সমৃদ্ধ করে। আলোচনায় বক্তারা সমাজে পরিচারিকাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরেন। অধ্যাপক রাজেশচন্দ্র মণ্ডল বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষের উচিত পরিচারিকাদের শ্রম, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া। প্রধান অতিথি স্বামী অমরেশ্বরানন্দ মহারাজ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “মানবসেবাই ঈশ্বরসেবা। যাঁরা নীরবে মানুষের সেবা করে চলেছেন, তাঁদের সম্মান জানানোই প্রকৃত মানবধর্ম।” তিনি জানান, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে সাম্য, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে কাটোয়া রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের সম্পাদক সরোজ দাস সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শেষপর্বে ডোনা রক্ষিতের কণ্ঠে ‘রামকৃষ্ণ শরণম’ সংগীত পরিবেশিত হয়। এরপর উপস্থিত ১৭০ জন পরিচারিকার হাতে উপহার হিসেবে একটি করে ছাতা তুলে দেওয়া হয়। প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

মানবিক মূল্যবোধ, সম্মানবোধ এবং সেবার আদর্শে উজ্জ্বল এই ব্যতিক্রমী আয়োজন সমাজের নেপথ্যের শ্রমজীবী মানুষদের মর্যাদা দেওয়ার এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। উপস্থিত সকলেই এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এমন কর্মসূচি আরও বিস্তৃত পরিসরে আয়োজনের আহ্বান জানান।





















