নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা:- ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর রীতি ভেঙে পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। সাংবিধানিক নিয়ম মেনে বিধানসভার মেয়াদ শেষ হতেই কড়া পদক্ষেপ নিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। বৃহস্পতিবার রাতে রাজভবন থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ইস্তফা না দিলেও নিয়ম অনুযায়ী আর মুখ্যমন্ত্রী পদে রইলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য বাংলা এখন রাষ্ট্রপতি শাসনের আওতায়। এবারের নির্বাচনে নিজের গড় ভবানীপুর থেকেই ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন ‘ঘরের মেয়ে’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলপ্রকাশের পর থেকেই উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। গণনাকেন্দ্রে কারচুপি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর মদতে ভোট লুটের অভিযোগ তুলে সরব হন তৃণমূল নেত্রী। সাফ জানিয়ে দেন, “আমরা হারিনি, আমাদের হারানো হয়েছে। ইস্তফা দেব না, রাজভবনেও যাব না।” তাঁর এই অনড় অবস্থানের জেরে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকটের মুখে পড়েছিল গোটা রাজ্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃতীয় সরকারের মেয়াদ ছিল ৭ মে পর্যন্ত। নিয়ম অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পুরনো মন্ত্রিসভার আর কোনও কার্যকারিতা থাকে না। সাধারণত মুখ্যমন্ত্রী রাজভবনে গিয়ে ইস্তফাপত্র পেশ করেন এবং নতুন সরকার না আসা পর্যন্ত ‘কেয়ারটেকার’ হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু মমতা সেই পথে না হাঁটায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন রাজ্যপাল। বৃহস্পতিবার রাতেই বিধানসভা ভঙ্গের নির্দেশ দেন তিনি। মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়াল সেই নির্দেশিকা কার্যকর করার বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। নির্বাচনে জয়ের পর ভারতীয় জনতা পার্টি আগামী ৯ মে শপথ নিতে চলেছে। অর্থাৎ ৭ মে থেকে ৯ মে—এই দু’দিনের জন্য প্রশাসনিক শূন্যতা এড়াতে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়েছে। সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ না করলেও বিধানসভা ভেঙে যাওয়ায় তাঁর সমস্ত প্রশাসনিক ক্ষমতা বিলুপ্ত হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিনটিকে বাংলার ইতিহাসের ‘কালো দিন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নয়, বরং পেশিবল ও কারচুপির মাধ্যমে বিজেপি ক্ষমতায় আসছে। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, জনতা যাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তাঁর পদ আঁকড়ে থাকার চেষ্টা কেবল হাস্যকর নয়, অসাংবিধানিকও বটে। আপাতত সবার নজর ৯ মে-র দিকে, যখন বাংলার মসনদে বসতে চলেছে নতুন সরকার। কিন্তু তার আগে ইস্তফা না দিয়ে মমতার এই ‘প্রতিবাদী’ বিদায় বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায় হিসেবে থেকে যাবে।



















