নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা:- কলকাতার রাজপথে অদম্য প্রতিবাদ,নব্বই ছুঁইছুঁই প্রবীণ সাংবাদিক সন্তোষ দত্তকে সশ্রদ্ধ কুর্নিশ।
বয়সের ভার কেবলই শরীরের, মনের বা শিরদাঁড়ার নয়,এই ধ্রুব সত্যকে আজ আরও একবার প্রমাণ করলেন কাটোয়ার প্রবীণ সাংবাদিক সন্তোষ দত্ত। যাঁর বয়স আজ নব্বইয়ের দোরগোড়ায়, যাঁর জীবনের সিংহভাগই অতিবাহিত হয়েছে খবরের সন্ধানে আর সত্যের উন্মোচনে, তিনি আজও অক্লান্ত, আজও আপসহীন। জীবনের যে সায়াহ্নে এসে শরীরের বিশ্রাম নেওয়ার কথা, সেখানে দাঁড়িয়েও তিনি ন্যায়ের দাবিতে রোদ-ক্লান্তি উপেক্ষা করে রাজপথে দণ্ডায়মান।সম্প্রতি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর যে বর্বরোচিত হামলা ও শারীরিক নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে, তা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর এক নগ্ন আঘাত। কলম-সৈনিকদের ওপর হওয়া এই নির্মম অন্যায়ের বিরুদ্ধে আজ যখন কলকাতার রাজপথ উত্তাল, তখন সেই প্রতিবাদী মিছিলে জ্বলজ্বল করছে কাটোয়ার প্রবীণ সাংবাদিক সন্তোষবাবুর উপস্থিতি। বার্ধক্য তাঁকে ঘরের চার দেওয়ালে আটকে রাখতে পারেনি। সহকর্মীদের রক্ত ঝরার প্রতিবাদে, ন্যায়ের সপক্ষে তিনি আজও নিজের শিরদাঁড়া সোজা রেখে পথে নেমেছেন।

তাঁর এই দৃপ্ত পদচারণা যেন নীরবে বুঝিয়ে দিচ্ছে সত্যিকারের সাংবাদিক কখনও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেন না। আজকের নবীন প্রজন্মের সাংবাদিকদের কাছে তিনি শুধু একজন প্রবীণ সহকর্মী নন, তিনি এক জীবন্ত কিংবদন্তি এবং এক বিশাল অনুপ্রেরণা। যে বয়সে মানুষের স্বাভাবিক হাঁটাচলা করতেই অন্যের সাহচর্যের প্রয়োজন হয়, সেই বয়সে তিনি যেভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ের ময়দানে সামনের সারিতে দাঁড়িয়েছেন, তা এক কথায় অভাবনীয়।

তাঁর এই উপস্থিতি প্রতিবাদের ভাষাকে কেবল জোরালোই করেনি, বরং সমগ্র সাংবাদিক সমাজকে এক সুতোয় বেঁধে সাহস জুগিয়েছে।সত্যনিষ্ঠা ও কর্তব্যপরায়ণতার যে অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি আজ স্থাপন করলেন, তা সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। প্রবীণ সাংবাদিক সন্তোষ দত্তের এই হার-না-মানা জেদ, অদম্য স্পৃহা এবং সহকর্মীদের প্রতি তাঁর এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসাকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

কলকাতার রাজপথ আজ সাক্ষী রইল এক অকুতোভয় যোদ্ধার। কলমের এই প্রবীণ ও অক্লান্ত সৈনিককে জানাই শতকোটি কুর্নিশ!






















