নিজস্ব সংবাদদাতা, কাটোয়া:- শিশুদের জন্মমাস উদযাপনে অনন্য উদ্যোগ চরপানুহাট অঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ে।গরিব পরিবারের ছাত্রদের মুখে হাসি ফুটছে ‘স্কুল-বার্থডে’ তে। শিক্ষা শুধু পাঠ্যসূচির সীমায় আবদ্ধ নয় মানসিক বিকাশ ও সামাজিক সম্প্রীতিরও অন্যতম মাধ্যম। সেই ভাবনা থেকেই অনন্য এক উদ্যোগ নিয়েছে চরপানুহাট অঃপ্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতি মাসের শেষ দিনে বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের জন্মমাস উদযাপন করা হয় এখানে। বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৫৪ জন ছাত্রছাত্রী আছে, আর প্রত্যেক মাসেই যাদের জন্মদিন পড়ে, তাদের জন্য আয়োজিত হয় ছোট্ট কিন্তু ভালোবাসায় ভরা জন্মদিন অনুষ্ঠান। ঠিক যেমন বাড়িতে জন্মদিনে কেক কাটা হয়, স্কুলেও সেই রীতিই মানা হয়। মাসের শেষ দিনে জন্মমাসের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে কেক কেটে উদযাপন করেন প্রধান শিক্ষক হীরক বিশ্বাস ও অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা। এ মাসে মোট ৬ জন পড়ুয়ার জন্মমাস উদযাপন করা হয়েছে। শিশুদের মুখের উচ্ছ্বাস, করতালিতে যেন ভরে ওঠে পুরো পরিবেশ। শুধু কেক নয়, বার্থডে ক্যাপ, চকলেট সব থাকে। জন্মদিনের দিন থাকে বিশেষ মেনু। মিড-ডে মিলে পরিবেশন করা হয় মাংস, পায়েস ও মিষ্টি।

অনুষ্ঠানের বেশিরভাগ ব্যয়ভার শিক্ষকরা নিজেরাই বহন করেন। কখনও-সখনও অভিভাবকরাও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। অভিভাবকদের কৃতজ্ঞতা আরও বেড়ে যায় এই ভেবে যে, ঘরের অভাব-অনটনের কারণে যেসব শিশুর জন্মদিন বাড়িতে পালন করা হয় না, তারা স্কুলে অন্তত একটি দিন নিজের জন্মদিনের আনন্দ উপভোগ করতে পারে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হীরক বিশ্বাস জানান,এই এলাকার অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী তপস্বী ও গরিব পরিবারের। আর্থিক সমস্যার কারণে অনেকের বাড়িতে জন্মদিন পালনের সুযোগ হয় না। তাই আমরা চাই, অন্তত স্কুলে তারা একটি আনন্দের দিন কাটাক। এই উদ্যোগে ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে অভিভাবক সবাই খুব খুশি। বিদ্যালয়ের এই অভিনব উদ্যোগ কেবল শিশুদের মুখে হাসিই ফোটাচ্ছে না,তাদের মধ্যে জন্ম দিচ্ছে আত্মবিশ্বাস, উৎসবের আনন্দ এবং স্কুলকে নিজের বাড়ি মনে করার অনুভূতি। স্থানীয়দের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে অন্যান্য বিদ্যালয়ের জন্যও।























