নিজস্ব সংবাদদাতা, মঙ্গলকোট:- পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া মহকুমার মঙ্গলকোটের কোঁয়ারপুর গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক তরুণী নার্সের। বৃহস্পতিবার বিকেল নাগাদ তাঁর মৃত্যুসংবাদ গ্রামে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা। সামান্য জ্বর ও ঠান্ডা লাগা থেকে এমন মর্মান্তিক পরিণতি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না কেউই।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রথমদিকে জ্বর ও ঠান্ডার উপসর্গ দেখা দিলে তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন। তখনও বোঝা যায়নি তিনি নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত। ২ জানুয়ারি তিনি কাটোয়ার এক ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসক সিদ্ধেশ্বর গুপ্তের কাছে যান। ৩ জানুয়ারি ফের সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসকেরা অবস্থার অবনতি দেখে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাঁকে বারাসাতের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। সেখানেই পরীক্ষায় ধরা পড়ে তিনি নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত। বারাসাত নারায়ণ হাসপাতালে কর্মরত ওই তরুণী দীর্ঘদিন কোমায় ছিলেন। সম্প্রতি তাঁর ওষুধের ডোজ কিছুটা কমানো হলেও শেষ পর্যন্ত আর ফেরানো গেল না তাঁকে। মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতাল মহল থেকে শুরু করে নিজ গ্রাম সবখানেই নেমে আসে শোকের ছায়া। পরিবারের দাবি, প্রথমদিকে উপসর্গ এতটাই সাধারণ ছিল যে কেউই বিপদের আশঙ্কা করেননি। ৩১ ডিসেম্বর তিনি চাকরির পরীক্ষার জন্য গুসকরা গিয়েছিলেন। কাটোয়া শহরে ফ্ল্যাট থাকলেও গ্রামের বাড়িতে আসেন। সেখান থেকেই অসুস্থতার সূত্রপাত বলে মনে করা হচ্ছে।বর্তমানে তাঁর বাবা-মা নার্সিংহোমে পৌঁছেছেন। গ্রামের বাড়িতে রয়েছেন দাদু-ঠাকুমা। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী ও কর্মঠ ছিলেন ওই তরুণী।

নার্স হিসেবে মানুষের সেবা করাই ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।এই ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এলাকায়।একজন তরুণ স্বাস্থ্যকর্মীর এমন অকালপ্রয়াণে স্তব্ধ গোটা মঙ্গলকোট। পরিবার ও গ্রামবাসীর একটাই প্রশ্ন সামান্য জ্বর থেকে কীভাবে এমন ভয়াবহ পরিণতি?























