নিজস্ব সংবাদদাতা কাটোয়া:- কাটোয়ায় “কিশলয় পাঠশালা”-য় প্রজাতন্ত্র দিবসে বিনামূল্যের কোচিং শুরু। সরকারি বিদ্যালয় একের পর এক বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা, ক্রমবর্ধমান স্কুলছুট ছাত্রছাত্রী এবং কাজের তাগিদে শিশু বয়সেই ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকে পরিণত হওয়ার মতো ভয়াবহ বাস্তবতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে শিক্ষার আলো জ্বালাতে এগিয়ে এলো শিক্ষক সমাজ। এই সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি কাটোয়া পশ্চিম চক্রের উদ্যোগে কাটোয়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডে মেহের আলী শেখ ও শক্তিপদ দাস স্মৃতি ভবনে চালু রয়েছে “কিশলয় পাঠশালা”একটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যের কোচিং সেন্টার। আজ, ২৬ জানুয়ারি দেশের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি সংগঠনের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে এই শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিক ভাবে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে আয়োজিত এই বিশেষ দিনে শিক্ষার সঙ্গে দেশপ্রেমের বার্তা তুলে ধরা হয়।

প্রতি সপ্তাহে সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই কোচিং সেন্টারে সমস্ত বিষয়ে পাঠদান করা হবে। ইতিমধ্যেই ২৪ জন ছাত্রছাত্রী নাম নথিভুক্ত করেছে, যা এলাকার অভিভাবকদের আগ্রহ ও আস্থারই প্রতিফলন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক ভাবে “কিশলয় পাঠশালা”-র উদ্বোধন হয়। এর আগেও লকডাউনের কঠিন সময়ে প্রায় সাত মাস ধরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে গিয়েছিল এই পাঠশালা—যা নিঃসন্দেহে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

আজ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি পূর্ব বর্ধমান জেলার সহ-সম্পাদক তথা কাটোয়া জোনাল সম্পাদক কৌশিক দে। সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন কাটোয়া পশ্চিম চক্রের সম্পাদক জয়দেব মণ্ডল। উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম চক্রের সভাপতি সুকান্ত ভট্টাচার্য, শিক্ষক অমিত কুমার ভট্টাচার্য, চিন্ময় শর্মা মণ্ডল এবং এলাকার বিশিষ্ট পার্টি নেতৃত্ব সুজিত রায়, পার্থ প্রতিম রায়চৌধুরী, গোপাল হরিজন, অলোক দাস, জয়নাল আবেদিন-সহ বহু সমর্থক ও অভিভাবক-অভিভাবিকাবৃন্দ।

শিক্ষকদের এই নিঃস্বার্থ উদ্যোগ শুধু একটি কোচিং সেন্টার নয়, বরং সরকারি বিদ্যালয় ও প্রাথমিক শিক্ষাকে বাঁচিয়ে রাখার এক শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলনের দিশা দেখাচ্ছে। “কিশলয় পাঠশালা” আজ অনেক শিশুর কাছে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার নতুন ঠিকানা হয়ে উঠছে।























