গৌরনাথ চক্রবর্ত্তী, কাটোয়া:- পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া থানার মুস্থূলী গ্রামে প্রতিবছর কার্তিক অমাবস্যার রাতে এক অনন্য দৃশ্যের সাক্ষী থাকে হাজারো ভক্ত। তিন শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য মেনে জাগ্রত বোলতলা কালী মায়ের বিসর্জন হয় আজও পাটকাঠির মশালের আলোয়। দেবীর মূর্তি কাঁধে নিয়ে দৌড়তে দৌড়তে গ্রামের পথে এগিয়ে যান ভক্তরা, মুখরিত হয় “জয় মা কালী” ধ্বনিতে সেই দৃশ্য চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা মুশকিল।

স্থানীয়দের কাছে মা কালী পরিচিত “মেজঠাকরুন” নামে। জনশ্রুতি অনুযায়ী, প্রায় তিনশো বছর আগে এক তন্ত্রসাধক বকুলগাছতলায় দেবীর একটি ছোট মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পূজার সূচনা করেন। মৃত্যুর পর তাঁর নির্দেশে সাধককেই ওই স্থানে সমাধি দেওয়া হয়, এবং সেই স্থানই আজকের বোলতলা কালীবাড়ি। বর্তমানে মন্দিরটি গড়ে উঠেছে ভক্তদের অনুদানে।

মন্দির কমিটির অন্যতম সদস্য অশোক কুমার দাস জানান আমাদের চার পুরুষ ধরে এই পূজো চলছে। এখন এটি বারোয়ারি পুজো। ট্রাস্ট গঠনের পর সব দায়িত্ব ভাগ করে পালন করা হয়। বোলতলা কালীপুজোর আসল আকর্ষণ নিঃসন্দেহে বিসর্জনের মুহূর্ত। গ্রামের প্রবীণ ভক্তদের কথায়, “বিসর্জনের দিন বেহারা ঠিক করতে হয় না মাকে কাঁধে তোলার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।” ঐতিহ্য অনুযায়ী, দেবীকে কাঁধে তুলে পাটকাঠির মশালের আলোয় মিছিল বেরোয় মুস্থূলী থেকে। এরপর পাশের আমডাঙ্গা গ্রামে নিয়ে গিয়ে বুড়ো শিবের সঙ্গে ‘দেখা’ করানো হয়, তারপর মন্দির সংলগ্ন পুকুরে হয় প্রতিমা বিসর্জন। প্রতি বছর এই সময় মুস্থূলী গ্রামে নেমে আসে জনসমুদ্র। দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড়ে উপচে পড়ে গোটা গ্রাম। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাটোয়া থানার পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাখা হয় বিশেষ নজরদারি ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। ভক্তদের বিশ্বাস, মা বোলতলা কালী শুধু পূজার প্রতিমা নন, তিনি মুস্থূলীর রক্ষাকর্ত্রী, আশ্রয় ও আস্থার প্রতীক। মায়ের বিসর্জন মানেই আর এক বছরের প্রতীক্ষা আবারও সেই আলো, সেই মশাল, আর মাতৃস্বরূপার আগমনের প্রতিশ্রুতি।























