নিজস্ব সংবাদদাতা, কাটোয়া:- ভোট উৎসবের বাদ্যি বাজতেই ঘরে ফেরার ধুম লেগেছে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে। তবে এই ফেরা কেবল উৎসবের আনন্দ নয়, বরং এক অজানা আশঙ্কার তাড়নায়। ভোট না দিলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ে যেতে পারে এই আতঙ্কেই ভিন রাজ্য থেকে দলে দলে শ্রমিকরা ফিরছেন নিজের ভিটেয়। বুধবার কাটোয়া স্টেশনে দেখা গেল সেই চেনা ভিড়ের ছবি।

হাওড়া থেকে কাটোয়াগামী ট্রেনগুলি থেকে নামছেন শত শত শ্রমিক। কারো কাঁধে বড় বস্তা, কারো হাতে ধরা ছোট শিশুর হাত। মূলত কেরালা, মহারাষ্ট্র, দিল্লি এবং কর্ণাটকের মতো রাজ্যগুলোতে শ্রমিকের কাজ করতে যাওয়া মানুষগুলো এখন বাড়ির পথে। কাটোয়া স্টেশন থেকে মুর্শিদাবাদগামী সংযোগকারী ট্রেনগুলিতে ওঠার জন্য রীতিমতো হুড়োহুড়ি পড়ে যাচ্ছে।

সাধারণত ইদ বা পুজোর সময় এই ভিড় দেখা যায়। কিন্তু এবার শ্রমিকদের কণ্ঠে শোনা গেল অন্য সুর। স্টেশনে অপেক্ষারত এক শ্রমিক করিম সাদ্দাম শেখ মনোয়ারা বিবি, শামীমা সুলতানা আকবর আলিরা বলেন কাজে তো থাকতেই চেয়েছিলাম, কিন্তু শুনছি এবার ভোট না দিলে নাকি ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেবে। আধার কার্ড বা রেশন কার্ড নিয়েও সমস্যা হতে পারে। সেই ভয়েই সব কাজ ফেলে চলে এলাম।শ্রমিকদের বড় অংশের মধ্যেই এই ধারণা প্রবল হয়েছে যে, বিধানসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে থাকা সরকারি নথিপত্র সংকটে পড়তে পারে। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এমন কোনো নির্দেশিকা নেই, তবুও এক অজানা আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে তাঁদের।শ্রমিকদের সিংহভাগই মুর্শিদাবাদের বড়ঞা, ভরতপুর বা কান্দি এলাকার বাসিন্দা।হাওড়া-কাটোয়া লোকাল এবং সেখান থেকে আজিমগঞ্জগামী ট্রেনে প্রবল ভিড়।হঠাৎ কাজ ছেড়ে চলে আসায় অনেক শ্রমিকের মজুরি কাটা যাচ্ছে, তবুও ‘পরিচয়’ বাঁচানোর লড়াইয়ে তাঁরা আপসহীন।এদিকে স্টেশনে ভিড় সামলাতে জিআরপি এবং আরপিএফ জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়েছে। তবে শ্রমিকদের এই ‘নাম বাদ যাওয়ার ভয়’ কাটাতে স্থানীয় পর্যায়ে আরও সচেতনতামূলক প্রচারের প্রয়োজন বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

আপাতত, ঘাম আর ধুলো মাখা মুখে এক বুক চিন্তা নিয়ে ট্রেনের কামরায় জায়গা পাওয়ার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এই পরিযায়ী শ্রমিকরা। তাঁদের কাছে এখন কাজ বা উপার্জনের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজের নাগরিকত্বের প্রমাণ রক্ষা করা।





















