বনশ্রী চ্যাটার্জী,শান্তিনিকেতন:- দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য মেনে বৈতালিক ব্রহ্ম উপাসনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে গেল বিশ্বভারতীর পৌষ উৎসব ও পৌষমেলা। কনকনে শীত আর কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে পৌষের আবাহনে মুখরিত হয়ে উঠল কবিগুরুর শান্তিনিকেতন। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে অন্যান্য বছরের মতো এবছরও সুষ্ঠুভাবে আয়োজিত হচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী মেলা। ৬ই পৌষ রাত্রে বৈতালিক গানের মাধ্যমে বিশ্বভারতীর পৌষ উৎসবের সূচনা হয়। এরপর ৭ই পৌষ ভোরে গৌরপ্রাঙ্গনে বৈতালিক এবং ছাতিমতলায় ব্রহ্ম উপাসনার আয়োজন করা হয়।

ভোরের আলো ফোটার আগেই বিশ্বভারতীর পড়ুয়া, অধ্যাপক, কর্মী ও আশ্রমিকরা পৌষের ডাকে সামিল হন। গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানে গানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা প্রাঙ্গণ। এই উপাসনায় অংশ নেন প্রায় শতাধিক মানুষ, যার মধ্যে ছিলেন পর্যটকরাও। ঠাকুর পরিবার তথা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই পৌষমেলা আজও তার ঐতিহ্য ও আবেগ অটুট রেখে চলেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেলার আঙ্গিক ও ব্যবস্থাপনায় নানা পরিবর্তন এলেও, মানুষের উন্মাদনা ও আগ্রহ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। যার ফলস্বরূপ নির্ধারিত দিন ৭ই পৌষের আগেই পর্যটকে ভরে উঠেছে শান্তিনিকেতন ও বোলপুর শহর। রাজ্য ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও বিদেশ থেকেও বহু পর্যটক এই মেলা উপভোগ করতে এসেছেন। চলতি বছর ২৩ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে পৌষমেলা। ভুবনডাঙ্গা, অর্থাৎ মেলার মাঠ হিসেবে পরিচিত স্থানে বসেছে মেলার আসর। সেখানে হস্তশিল্প, বস্ত্র, পোশাক, প্রসাধন সামগ্রী, গৃহসজ্জার উপকরণ সহ নানা ধরনের সামগ্রীর পসরা সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি প্রতিদিনই থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকনৃত্য, সংগীত ও নানা ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনা।

অন্যদিকে, পৌষমেলাকে কেন্দ্র করে শান্তিনিকেতন ও বোলপুর এলাকাজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে একাধিক কড়া পদক্ষেপ। পুলিশ ও প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে নির্বিঘ্নে মেলা উপভোগ করছেন দর্শনার্থীরা। সব মিলিয়ে আগামী ছয় দিন শান্তিনিকেতন জুড়ে থাকবে পৌষমেলার উৎসবের রেশ ও রবীন্দ্র ভাবনার আবহ।






















