বনশ্রী চ্যাটার্জী, শান্তিনিকেতন:- প্রতিবারের মতো এবারও শান্তিনিকেতন বসতে চলেছে পৌষমেলার আসর । বর্তমানে চলছে তারই প্রস্তুতি। রাজ্য তথা দেশের অন্যতম জনপ্রিয় একটি মেলা হল শান্তিনিকেতন এর পৌষমেলা। কবিগুরুর এই প্রতিষ্ঠান এবং সমগ্র শান্তিনিকেতন জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নানান জায়গা গুলি ঘুরে দেখতে সারাবছর পর্যটকদের দেখা মেলে বোলপুরে। তবে, ঐতিহ্যবাহী এই মেলার সময় বেড়ে যায় সেই সংখ্যাটা। প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এই মেলা দেখতে ছুটে আসেন দেশ বিদেশের অসংখ্য পর্যটক। পৌষ মেলাকে ঘিরে কার্যত জনজোয়ার দেখা যায় বোলপুর শহরে। চলতি বছরেও বসতে চলেছে এই পৌষমেলা।

সূত্র মারফত পাওয়া খবর অনুযায়ী, আগামী ২৩ শে ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে চলেছে শান্তিনিকেতনের পৌষমেলা। যা চলবে আগামী ছয় দিন। পুরোনো প্রথা ও পরম্পরা অনুযায়ী ব্রহ্ম উপাসনা এবং বৈতালিকের মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে সূচনা হয় পৌষমেলার। গত বারের মতো এবারেও এই মেলা পরিচালনার দায়িত্বে থাকছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে মেলার প্রস্তুতি পর্ব। তবে জানা গিয়েছে, এই বছর মেলার স্থান পরিবর্তন হয়েছে। পূর্বপল্লী বয়েজ হোস্টেল সংলগ্ন মাঠের পরিবর্তে পূর্বপল্লীরই অপর একটি মাঠে বসবে এবারের পৌষ মেলা। মেলার আগে মেরামত করা হচ্ছে মাঠ সংলগ্ন রাস্তাঘাট।

প্রসঙ্গত, করোনা অতিমারী ও অন্যান্য কারণে বিগত কয়েকবার পৌষমেলা পরিচালনার দায়িত্বে ছিল না বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। তবে গত বছর আবারও বিশ্বভারতী এই পরিচালনার দায়িত্বে ছিল। ঐতিহ্যবাহী এই মেলায় হস্তশিল্পের বিভিন্ন জিনিসের পাশাপাশি

আরও নানান সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেন বিক্রেতারা। এর পাশাপাশি থাকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। বিশ্বভারতীর বিভিন্ন ভবন ও বিভাগের বিভাগীয় স্টলেরও দেখা মেলে এখানে। গত বারের মত এবারেও, বিশ্বভারতীর তরফে জানানো হয়েছে নির্ধারিত দিনের মধ্যেই শেষ হবে পৌষমেলা। বিক্রেতাদের উদ্দেশ্যে জানানো হয়েছে ভাঙ্গা মেলা রাখা যাবে না এই বারেও। প্লট বুকিং এর ক্ষেত্রে দুর্নীতি রুখতেও কড়া নজর রাখছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি মেলার প্রচলিত কাঠামোও বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে তাদের তরফে। সব নিয়ে তাই জোরকদমে চলছে প্রস্তুতি। স্থানের পরিবর্তন, রাস্তাঘাট মেরামতসহ নিরাপত্তা ও পরিষেবা খতিয়ে দেখা হচ্ছে সবদিকই। নতুন করে নিজেদের সাজিয়ে তুলছে হোটেল ও রিসোর্টগুলিও। শীতের আবহে শান্তিনিকেতনের বাতাসে এখন পৌষমেলার গন্ধ। আনন্দ ও উৎসবে মেতে ওঠার অপেক্ষায় গুরুদেবের শান্তিনিকেতন। বিগত বছর গুলির মতো আসন্ন পৌষমেলাও সফল ভাবে সম্পন্ন হবে, আশাবাদী কর্তৃপক্ষ থেকে পড়ুয়া, স্থানীয় মানুষ , বিক্রেতা সকলেই।






















